বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ" ৪র্থ পর্ব (ক) জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় "বিকৃত ইতিহাস"

লিখেছেন----সাঈদ আল মাহদী

জাতীর চিন্তা চেতনা অনেকটাই ইতিহাস থেকে নেয়া।ইতিহাস যদি হয় গৌরবময়, বীরত্বপূর্ণ।  পাপাচার, অন্যায় ও অবিচার মুক্ত তাহলে সে হয় গর্বিত।পদাঙ্ক  অনুসরণ করে তার পূর্বের জাতির। মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার প্রেরণা পায় সে।মানসিক ভাবে সে হয় দৃঢ়চিত্তের অধিকারি।সে শির দিবে, কিন্তু শিরস্ত্রাণ দিবে না।ভাঙ্গে, নিংড়াবে না।এটা তার ইতিহাস থেকে শিক্ষা।

তার পূর্ব পুরুষদের ন্যায়নীতি, বীরত্ব,মহাপুরুষ, বিশ্বশাসনের গল্প-কাহিনী যখন সে পড়ে,তখন তার মনের কোঠিরে বিশ্বশাসক রূপে আবির্ভূত হয়। তার হৃদয়রাজ্য, কল্পনা,চিন্তা চেতনায় "আমি এমন হব,আমি এমন হব" এক ধরণে মনোভাব ফোটে উঠে।দাসত্ব আঁচ করতে পারেনা। শত্রু-মিত্র চিনতে সে ভুল করে না।

যুগে যুগে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের পূর্বপুরুষদের হাতে চড় খেতে খেতে, এবার সহস্র যোদ্ধে পাশাপাশি  আগ্রাসনের অরেকটি অস্ত্র প্রয়োগ করেছে তা হল "#বিকৃত_ইতিহাস"।

বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের অংশ হিসাবে আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মহীনতা,অনৈতিকতার পাশাপাশি বিকৃত ইতিহাস ঢুকিয়ে দিয়েছে।সম্রাজ্যবাদীরা শারীরিক গোলামি থেকে মুক্তি দিয়ে,একদল মদদপুষ্ট বুদ্ধি-প্রতিবন্ধিদের মাধ্যমে মানসিক গোলামিতে ঠিকই আটকে রেখেছে।

ইতিহাসের ইতিহাস যদি দেখেন তাহলে আপনি দেখবেন মুসলিম শাসকদের ইতিহাস যতটুকু বিকৃত হয়েছে, অন্য কোন জাতী গুষ্ঠির ইতিহাস এতটা  বিকৃত হয়নি।সাহাবায়ে কেরামের ইতিহাস বিকৃত করেছে ইহুদি সৃষ্ট শিয়া ঐতিহাসিকরা।মধ্যযুগের ইতিহাস বিকৃত করেছে সেই সময়ের বর্বর জাতির উত্তরসূরি পাশ্চাত্য ঐতিহাসিকরা।ভারতীয় মুসলিম শাসকদের ইতিহাস অধিকাংশই বিকৃত করেছে হিন্দু ঐতিহাসিকরা। মুসলমাদেরকে সর্বদিক থেকে পরাস্ত করতে অমুসলিমদের সর্বদলীয় অগ্রাসন এই বাস্তবতা তুলে ধরতে রব্বে করীম বলেন:-
51] ۞ يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا لا تَتَّخِذُوا اليَهودَ وَالنَّصٰرىٰ أَولِياءَ ۘ بَعضُهُم أَولِياءُ بَعضٍ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِنكُم فَإِنَّهُ مِنهُم ۗ إِنَّ اللَّهَ لا يَهدِى القَومَ الظّٰلِمينَ
[51] হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।(সূরা মায়েদাহ, ৫১)

শিয়া ঐতিহাসিকরা অতিরঞ্জিত ভাবে আহলে বায়াতের পক্ষে লিখতে গিয়ে, সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এর বিরুদ্ধে কলম চালিয়েছে। বিশেষত্ব খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) উসমান ইবনে আফওয়ান (রাঃ), উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ),আশারায়ে মুবাশশারাহ্ তালহা (রাঃ) ও  যুবায়ের (রাঃ)-উনাদের ইতিহাস বিকৃত করে নিকৃষ্ট তাণ্ডব চালিয়েছে।শিয়াদের কলমে সব চেয়ে নির্যাতিত সাহাবি হলেন কাতিবে ওহী আমীরে মাআবিয়া (রাঃ)।পরবর্তীতে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ঐতিহাসিকরা শিয়াদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে "ইতিহাস" নামটিকে কলঙ্কিত করেছেন।

পৃথিবির ইতিহাসে "ক্রুসেড যুদ্ধ" গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়।যা ছিল মুসলিম বিশ্ব ও ইউরোপিয়ানদের মাঝে ভায়াবহ যুদ্ধ।মুসলিম শাসকদের পারস্পারিক মনোমালিন্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে, সাম্রাজ্যবাদে মাতাল ঐক্যবদ্ধ ইউরোপিয়ানরা ১ম আক্রমনেই বাইতুল মুকাদ্দাস দখল করে নেয়।সেই দিন জেরুজালেমে শুধু মুসলমানদের পরাজয় হয়নি, মানবতা আর মনুষ্যত্বে পরাজয় হয়।যুদ্ধনীতি ভঙ্গ ও মানব সভ্যতা কলঙ্কিত হয়।
বিজয়ের পর ক্রুসেড যোদ্ধারা জেরুজালেমে রক্তের বন্যাপ্রবাহিত করে। এটা

ইউরোপিয়ানদের নিজ বিবরণ অনুযায়ী  শহরে  নারী, পুরুষ, শিশু,  বৃদ্ধ –যাকেই পাওয়া গেছে, তাকেই নিধন করা হয়েছে।অনেক ইহুদীও সেইদিন মুক্তি পায়নি বর্বরদের হাত থেকে।মুসলমানদের বহমান রক্তে ক্রুসেড যুদ্ধাদের ঘোড়ার খুর ডুবে গিয়েছিল।কী নির্মম!নিষ্ঠুর! বর্বর ইতিহাস!

অন্য দিকে মুসলিম প্রতিনিধি সুলতান সালাউদ্দীন আইয়ুবী যখন ক্রুসেডদের হাত থেকে জেরুজালেম মুক্ত করলেন।
তখন তিনি সভ্য সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
ইউরোপিয়ান ঐতিহাসিকদের মতে, "সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী এই ব্যাপারে উদার মনোভাব ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। তিনি তার সেনাপতি ও কমান্ডারদের শহরে শান্তি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করতে কঠোর নির্দেশ দেন এবং কোনো প্রকার অন্যায় অত্যাচার যেন না হয় সে ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করেন।"

খ্রিস্টান ঐতিহাসিকরা তাদের লিখিত গ্রন্থে সুলতান সালাহউদ্দিনের এই মহানুভবতার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন। এই মহানুভবতা থেকে যেমন বঞ্ছিত হয়নি স্বয়ং সম্রাট (অসুস্থের সময় ব্যক্তিগত ডাক্তার পাঠিয়েছেন স্বয়ং সুলতান), তেমনি বঞ্ছিত হয়নি কোনো সাধারণ সৈনিক,  খ্রিস্টান ও ইহুদী জনসাধারণ, নারী, শিশু কিংবা তরতাজা যুবক।"

আজ আমাদের জাতীয় শিক্ষাসিলেবাস ভাড়াটে বুদ্ধিজীবি ও কথিত প্রগতিশীল নারীদের মধ্যযুগ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক "হায় হুতাশ"।যখন আমরা ইসলামের আইন-কানুনের কথা বলি, উনারা তখন "মধ্যযুগী" "বর্বর"ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে আমাদের কন্ঠকে স্থব্দ করে দিতে চান।উনারা মধ্যযুগের নুন্যতম ইতিহাস জানেন না।অথবা সাম্রাজ্যবাদী পাশ্চাত্যের গোলামিতে মত্ত হয়ে দীপ্তিময় সূর্যকেও অস্বীকার করে বসেন।

👌মধ্যযুগ মুসলমানদের জন্য অপমান বা হীনমন্যতার জন্য নয়। বরং গর্ব ও মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।ভ্রাত্রিঘাতি বিছিন্ন দুএকটি সমস্যা ছাড়া, সামগ্রিকভাবে মধ্যযুগে আমরাই ছিলাম বিশ্বশাসক,ন্যায়-ইনসাফের ঝান্ডা উড়িয়েছি বিশ্বময়,জ্ঞান-বিজ্ঞানে অদ্বিতীয়, অধুনা বিশ্বের জনক হল মুসলমানদের মধ্যযুগের ইতিহাস।

কথিপয় ইউরোপিয়ানরা মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামল বর্বর প্রমান করতে গিয়ে দাস প্রথাকে টেনে আনে। তাই আসুন,কথিত বুন্ধি-প্রতিবন্ধিদের প্রভু তুলল,ইউরোপ-আমেরিকার দাস প্রথায় ইতিহাস জেনে নেই।
ইউরোপিয় দাস প্রথা:-
https://roar.media/bangla/main/history/trans-atlantic-slave-trade/

আর ইসলামে দাস আবিস্কার করেনি, বরং দাস প্রথা নির্মূলে কৌশলে কাজ করেছে।জেনে নেই ইসলামে দাস প্রথা:-
https://www.facebook.com/groups/105939063564236/permalink/154846035340205/

ওরা সত্য জেনেও গোপন করছে,ওরা মেঘ দিয়ে দীপ্তময় সূর্যকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।যুগে যুগে বর্বরদের পক্ষ নিয়ে মনুষত্ব্যকে কলুষিত করছে। আর এই দোষে দোষি হয়েছে আমাদের জাতীয় শিক্ষা সিলেবাস।

পরিবেশে আবারও বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে মেকেলের ভাষ্য স্বরণ করিয়ে দিতে চাই:- (১৯৩৫ সালের ৭ ডিসেম্বর 'দেশ' পত্রিকা।)

"এমন এক শ্রেণির লোক প্রস্তুত করিয়া যাইতে হইবে, যাহাদের কৃষ্ণচর্মের নিম্নে ভারতীয় শোণিত (রক্ত) প্রবাহিত হইবে সত্য, কিন্তু রুচি, মতামত ও চিন্তা ও চিন্তার ধারায় তাহারা হইবে সম্পূর্ণ ইংরেজ ভাবাপূর্ণ*

বি:দ্র:অধিক লম্বা হওয়ার আশংকায় ৪র্থ পর্বকে (ক)-(খ) ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

#১ম_পর্ব
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=188402318600779&id=100022930367828

#২য়_পর্ব
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=203671247073886&id=100022930367828

#৩য়_পর্ব
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=205019343605743&id=100022930367828

Said AL Mahdi

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার বিয়োগে আমরা মর্মাহত, ভারাক্রান্ত হে মহাননেতা!

  এখনো আশাবাদী, ইয়াহইয়া আস সিনওয়ার, হিজড়াঈলিদের সকল প্রোপাগান্ডা মিথ্যা প্রমাণিত করে, আবারো জীবিত ফিরে আসবেন। আর যদি তিনি চিরবিদায় নিয়...