বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ" ৩য় পর্ব জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় অনৈতিকতা।

লিখেছেন---সাঈদ আল মাহদী


২০১৪ ইং শিক্ষা বর্ষ হতে ষষ্ঠ শ্রেণী- নবম শ্রেণী পর্যন্ত “শারীরিক শিক্ষা” নামে একটি বই সিলেবাস ভুক্ত করা হয়। সচেতনতার নামে সচেতন ভাবে যৌনতার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি অধ্যায়ে, কমলমতি তরুণ তরুণীদের কুরুচিপূর্ণ যৌন আকাংখাই জাগ্রত করছে বলে মনে করেন শিক্ষা সচেতন সমাজ। অনেক শিক্ষক বইটি পড়াতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। অনেক অবিভাবক বইটি দেখে স্তম্ভিত হয়েছেন! মিডিয়াতে সেই থেকেই এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
আরো হতভম্বের বিষয় হল অষ্টম শ্রেণীর সিলেবাসে বলা হয়, "যুবক-যুবতী উভয়ের সমর্থনে শারীরিক সম্পর্ক দোষনীয় নয়।

ছেলে-মেয়ে নবযৌবনে পা দিয়েছে। এমন সময় যদি তাকে এ রকম অনৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়, তাও আবার জাতীয় সিলেবাসে!  তাহলে জাতির নৈতিক মেরুদণ্ড প্রথমেই ভেঙ্গে যায়।নিজের কামভাব পূর্ণ করার জন্য ধর্ষক হওয়া ছাড়া বিকল্প রাস্তা দেখে না।

অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুযোগে এমনিতেই ইঁচড়ে পাকা এরা। প্রতিদিন শিক্ষাঙ্গন থেকে ধর্ষণ আর ইভটিজিং এই সংবাদ আসে।তার মধ্যে আবার সিলেবাসে আবাধ যৌনতা। “শারীরিক শিক্ষা” নামক বইটির রেশ কাটতে না কাটতেই নৈতিকতার আরেক ধাপ নিচে নিয়ে আসল  “নিজেকে জান” নামক আরও একটি বই বাচ্চাদের দেওয়া হয়েছে, যা কিছু পাশ্চাত্য ঘেঁষা এন জি ও দের তৈরি। বইটিতে যা আছে তা কোন রুচি সম্পন্ন মানুষ উচ্চারণ করতে পারেনা। প্রেম করা থেকে শুরু করে শরীরের অঙ্গ পত্তঙ্গের অনু পরমাণুর গঠন এবং তার ব্যবহার খুব ভালো করেই শিখানো হচ্ছে! সমস্যা ফিল করলে জন্ম নিরোধক পিল বা কনডমের ব্যবহার এবং বাচ্চা প্রসবের সময় মায়েদের কি অবস্থা হয় তাও!

চিন্তার বিষয় হল, এই শিক্ষা ইসলাম সমর্থন করে না। এদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতিতে এমন শিক্ষা নেই। জাতি তা গ্রহণ করে না। শিক্ষক পড়াতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তাহলে কার ইশারার?
কার ইঙ্গিতে, কাদের খুশি করতে এই শিক্ষা জাতীয় সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়?
এটাতো এদেশের ধর্ম বিশ্বাস বা সংস্কৃতির শিক্ষা নয়। কেন এই অনৈতিক শিক্ষা জাতিকে দেওয়া হয়?

আসন কথা হল:-
পাশ্চাত্যের অধিকাংশ মানুষের ধর্ম বিশ্বাস হল খৃষ্টান। ইসা আঃ ছিলেন এই ধর্ম প্রচারক। ইসা আঃ পিতা ব্যতীত  জন্ম নিয়েছেন।এটা ছিল মহান রবের এক বিশেষ নিদর্শন।

সূরা মারইয়াম (مريم), আয়াত: ২১

قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ ءَايَةً لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا

অর্থঃ সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।

আধুনিক পাশ্চাত্যবাদীরা বিশ্বাস করে,  যীশু যেহেতু বাবা ছাড়াই জন্ম গ্রহন করে এত মর্যাদা লাভ করেছেন, এটা নিশ্চয় পূর্ণের কাজ।  এজন্যই বিবাহ বহির্ভূত বাচ্চাদান তাদের কাছে এক ধরনের ফ্যাশন। স্কুল পড়ুয়া ১২/১৩ বছরের ছেলে মেয়ে অবৈধ শিশুর জন্ম দিয়ে আবার সেলফিও দেয়! বিকৃত ধর্ম ও বিকৃত মানসিকতা হেতু এটা তাদের জন্য শোভা পেতেই পারে!

এটা হল পাশ্চাত্যের বিকৃত ধর্ম বিশ্বাস।
আর এটাই আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বুদ্ধি-ভিত্তিক যুদ্ধের মাধ্যমে।
আর আমাদের সুশীল সমাজ পাশ্চাত্যের বস্তাপচা মাল আমদানি করছে। যেমনটি হয়েছে সহশিক্ষার মধ্যেও।নৈতিকতাহীন শিক্ষা চালু হওয়ার কারণে,আমাদের দেশে দিন দিন অশিক্ষিতদের চেয়ে শিক্ষিত অপরাধির সংখ্যা বাড়ছে।এমন অনেক অপরাধ আছে যেখানে অশিক্ষিতদের কল্পনাও যায় না, কিন্তু শিক্ষিতদের রয়েছে আবাদ বিচরণ।সমাজে খুন,গুম,ঘুষ,দুর্নীতি,ধর্ষণ,হত্যা ইত্যাদি অপরাধে শিক্ষিত শ্রেণীর লোকই পাওয়া যায় বেশি।কেনই পাব না!যখন খোদ ঢাবিতে ঢাকঢোল পিটায়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরি পালন করে।
এতে কি প্রমান হয় না? আমাদের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বুদ্ধি-ভিত্তিক যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে, আদর্শ প্রজন্ম তৈরি করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ।ইসলামের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা শিক্ষাকে পরিহার করে রাষ্ট্রীয় ভাবে কুশিক্ষায় শিক্ষিত করা হচ্ছে।এবং অধিকাংশ শিক্ষিত লোক শিক্ষার অপব্যবহার করছে।যেমন- একজন ধর্ষকের জামিনকে দেয়।এখানে উকিল-আদালত উভয়েই দায়ী।

আজ আর এত বেশী ভাবনার সময় নেই। দেশ ও জাতীর বিরুদ্ধে এযে এক গভীর ষড়যন্ত্র ভ্রমহীন পাগলও তা বুঝে গেছে। মিশনারি সুবিধা ভুগিরা প্রতিটি কাজেই হস্তক্ষেপ করছে। সুকৌশলে মগজ ধোলাই করে আগামীতে আদর্শহীন ও মেধা শূন্য জাতি তৈরির পাঁয়তারা এটি। আমাদের ধর্ম বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয়তা বোধ ধ্বংসের নগ্ন হস্তক্ষেপ এসব। প্রায় দু'শ বছর দাস বানিয়ে রেখেও তাদের খায়েশ মেটেনি। এবার তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে ধর্ষণ ও অশ্লীলতার রেকর্ড সৃষ্টিকারী পাশের বাড়ির গুষ্টিটিও!

সম্মানিত অভিভাবক ও শিক্ষক সমীপে:-
আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইসলামী শিক্ষা , ইসলাম সম্পর্কে জানা ও মানা, ইসলামী তাহজীব ,তামাদ্দুন, ইসলামী সংস্কৃতি ও নৈতিকতা থেকে বিমুখ করে নাস্তিক্যবাদী শিক্ষায় শিক্ষিত করে ইসলামকে ও ঈমানকে ধ্বংসের এক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঘৃণ্য চক্রান্ত বাস্তবায়নের পায়তারা চলছে খুব আকঢাক করেই। ইসলামী দলগুলো তাদের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব মিছিল মিটিং প্রতিবাদ ,মানববন্ধন করছে। আন্দোলন ফলপ্রসূ কতটুকু হবে বলা মুশকিল । তবে এ অনৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও ধর্মহীন শিক্ষানীতি  বাতিলের জন্য যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবেন তারা হলেন অভিভাবক ও শিক্ষক/শিক্ষিকামন্ডলী।
একটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন -
শিক্ষক সমাজ যদি একইসাথে স্লোগান তোলে অনৈতিক,ধর্মহীন , নাস্তিক্যবাদী এ শিক্ষানীতি চালু হবার কারণেই লাগাতার ক্লাস না নেয়ার দৃপ্ত অঙ্গীকার করা। অভিভাবকদের ক্ষেত্রে বক্তব্য একই রকম যদি এ শিক্ষা নীতি বাতিল করা না হয় তবে আমাদের সন্তানদেরকে জেনে শুনে নাস্তিক ও আদর্শহীন বানানোর শিক্ষা দিবনা । স্কুল কলেজ বন্ধ করে অভিভাবকরা যদি সিদ্ধান্ত নেয় সন্তানদেরকে বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে । যদিও উচিত ছিল প্রত্যেক  অভিভাবকদের সন্তানকে কমপক্ষে প্রাথমিক দ্বীনি শিক্ষা দেয়ার জন্য নুরানী কার্ডেন বা মাদ্রাসাকেই বেচেঁ নেয়া ।
সময় থাকতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাকে আপনাকেই। তা না হলে এ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সন্তান নাস্তিকতার পথ বেচেঁ নিয়ে চিরস্থায়ী জাহান্নামের পথে যদি অগ্রসর হয় এর জন্য অভিভাবক হিসেবে দায় এরানো যাবে না কস্মিনকালেও । সময় এসেছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার । আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন । তার দ্বীনের রজ্জুকে শক্ত করে আকড়ে ধরার তাওফিক দান করুন ।আমিন।

(ধর্মহীন কর্ম শিক্ষা ব্যবস্থা)
(কর্মহীন ধর্ম শিক্ষা ব্যবস্থা)
যে সত্যের সন্ধানে:-
👎মুসলমানদের সন্তান হয়ে ইসলাম বিদ্বেষী হয় কেন?
👎কেন পাশ্চাত্য সাংস্কৃতিতে নিজেকে হারিয়ে দেয়?
👎আমাদের কলেজ ভার্সিটিতে কি শিক্ষা দেয়া হয়?
👎শিক্ষা সিলেবাসে ইসলামি ইতিহাস কারা প্রণয়ন করেছে, কি আছে সেখানে?
👎আমাদের ক্বওমী সিলেবাসই বা সমাজ গঠনে কতটুকু সহায়ক?

ইনশাআল্লাহ,
চোখ রাখুন।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার বিয়োগে আমরা মর্মাহত, ভারাক্রান্ত হে মহাননেতা!

  এখনো আশাবাদী, ইয়াহইয়া আস সিনওয়ার, হিজড়াঈলিদের সকল প্রোপাগান্ডা মিথ্যা প্রমাণিত করে, আবারো জীবিত ফিরে আসবেন। আর যদি তিনি চিরবিদায় নিয়...