শনিবার, ১২ মে, ২০১৮

কে দিয়েছে নারীর সম্মান (২)?



লিখেছেন--- মুআয আল জুহানী


এক যুবকের আর্তচিৎকারে হঠাৎ চতুর্দিক প্রকম্পিত হলো।

চারদিক থেকে মানুষজন আসতে শুরু করেছে। ছোট্ট ক‍্যাম্পটি লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে।
,,,,,,,،،،،،,,,,,,

আমি তোমাদের শুনাচ্ছি এক নিপীড়িত জাতির করুন ইতিহাস।

১৯২৩ সাল। কিছুদিন হলো,রুশ বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। বিশ্বের বৃহৎ পরাশক্তি রাশিয়া চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে। বিপ্লবীরা ছিলো বলসেভিক লাল সেনা।
তারা দেশ দখলের পরই পুরো দেশে তান্ডব চালিয়েছে। তাদের স্লোগানতো সকলেরি জানা ছিলো।সেই  পুরোনো এক স্লোগান।কেউ খাবে আর কেউ খাবে না,তা হবে না তা হবে না।
তাদের এ মুখরোচক স্লোগানে সবাই প্রথমে ধোঁকা খেয়েছিলো। যখন সকলে তাদের এ মিথ্যা টোপ সম্পর্কে অবগত হলো, সকলে তাদের উপর রাগে ক্ষোভে ফুঁসতে লাগলো।
১৯১৭তে বিপ্লব সংগঠিত হয়।ছ’বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এপর্যন্ত জনগণ উন্নয়নের কোন আভাস পায় নি।
কিন্তু লাল কম‍্যুনিস্ট বাহিনী তাদের সকল স্বাধীনতাই কেড়ে নিয়েছে। তাদের জায়গা-সম্পত্তি,ভিটে-বাড়ী সবি। এমনকি কোন যুগলকেও একত্রে থাকতে দেয়নি তারা।
এখন সবাই সরকারের অধীনে কাজ করবে,সমান খাবে,সমান পরবে।
তাদের সমান অধিকারের দাবি বাস্তবায়ন করবে।

এভাবেই সব চলা শুরু হয়েছে। পুরুষ মহিলা সকলে ক্ষেতে কাজ করে। সকলের পোষাক ও সমান। হাতাকাটা গেঞ্জি আর হাফ প্যান্ট। বড় কোন পোশাক হলেতো বেশি খরচ হবে।আর সেটা নিন্দনীয়।
কাজ শেষে সবাই হাসপাতালের ন‍্যায়  একসাথে ঘুমায়।
স্ত্রী সন্তান সব পৃথক করে দিয়েছে তারা।

একটা যুবক কতদিন আর থাকতে পারে আপন স্ত্রী ছাড়া?

বছর খানেক যাবত চলছে এই অত‍্যাচার।
একদিনের ঘটনা, জাফর ইকবাল নামের এক টগবগে যুবকের প্রচন্ড যৌন চাহিদা পেয়ে বসেছে। কিন্তু তার স্ত্রীকে যে তারা ধরে নিয়ে গেছে।

যৌন ক্ষুধা মেটাতে তারা তৈরী করেছে যৌননিবাস।কারো ক্ষুধা পেলে সেখানে যাবে।
সেখানে গিয়েই তার চাহিদা মেটাতে হবে।

জাফর ইকবাল নিজেকে আর সংবরণ করতে পারছিলো না।
সে পতিতালয়ে যাচ্ছে। এক পা এগুচ্ছে তো আরেক পা পিছুচ্ছে।
কিন্তু নিজেকে সে আর ধরে রাখতে পারছিলো না।
অবশেষে সে পৌঁছেছে পতিতালয়ে।মোটা, কালো একটা মহিলা বসে আছে, গেইটে। তাকে জিজ্ঞেস করলো,কী? লাগবে নাকি?
জাফর ইকবাল বললো হুম।
মহিলাটি তার জন্যে একটা কামরার দড়জা খুলে দিলো।

দুরুদুরু বুকে সে প্রবেশ করতে লাগলো, আস্তে আস্তে আন্দরে পৌঁছে গেছে সে।
অন্ধকার,প্রকট অন্ধকার। ভয়ে ভয়ে সে জানালাটা খুললো। সূর্যের আলোয় রুমটা পুরো আলোকিত, উদ্ভাসিত হয়ে গেলো। এতক্ষণে সে ভিতরে চোখ তুলে তাকিয়েছে।একটি পরিচিত চেহারা তার সামনে ধরা দিলো।
এ যে অন‍্য কারো চেহারা নয়।এ যে তার মমতাময়ী মায়ের করুন মুখ।
সে আর সহ‍্য করতে পারলো না। সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে চিৎপটাং হয়ে পড়ে গেলো।সে জ্ঞান হারিয়েছে। সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়েছে তার মা ও। কতদিন যাবত তার মায়ের সাথে সাক্ষাৎ নেই।দেখা নেই। কথা নেই। বহুদিন পর আজ সাক্ষাত হলো। তবুও এ পরিস্থিতিতে। সে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারেনি।
কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলো।মায়েরো জ্ঞান ফিরেছে।সে ছেলেকে শুনাতে লাগলো তার করুন ইতিহাস।
আর ধিক্কার দিতে লাগলো, বলতে লাগলো, এই কি তোর কম‍্যুনিস্ট নাস্তিক লাল কুত্তা বাহিনীর সাম‍্যনীতি?
ছিঃ। আল্লাহ যে কেন আমার স্বামীর সাথে মৃত্যু দেয়নি আমাকে। তাহলেতো তাদের এ জুলুম থেকে বাঁচতে পারতাম।হায় আল্লাহ, আমার মৃত্যু দাও।

জাফর ইকবাল ও নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। বুঝতে পেরেছে সে, নাস্তিকতায় কোন শান্তি নেই।
ইসলামই একমাত্র শান্তির ধর্ম।

সে আস্তে করে বাহিরে বের হয়ে গেলো।
মোটা দারোগানীটা জিজ্ঞেস করলো,কী? কাজ হয়েছে?
সে বললো, না।
আবার তার জিজ্ঞেস, কেনো না?
জাফর ইকবালের উত্তর, সে আমার মা।
আমি তার সাথে কিছু করতে পারবো না।
মহিলাটি আবার প্রশ্ন করলো, কেন ?
কি সমস্যা তাতে?
জাফর ইকবাল উত্তর দিলো, আমার বিবেক তা সাপোর্ট করে না।
এবার মহিলাটি গরম হয়ে গেলো।
সে বলতে লাগলো, আমরা বিবেক-টিবেক কিচ্ছু বুঝি না। আমাদের দেশে থাকতে হলে, আমাদের নীতি মানতে হবে,
সে আবারো অস্বীকার করলো।
এবার মহিলাটি পাশে টহলরত দুজন রক্ষীকে ডাকলো। তারা উপস্থিত হতেই তাদেরকে আদেশ করলো, ব্রাশফায়ার করে একে উড়িয়ে দাও। মুহুর্তেই দুটো ক্লাসিনকোভের এক ঝাঁক গুলি এসে জাফর ইকবালের শরিরটা ঝাঁঝরা করে দিলো। সে শুধু একটা চিৎকার দিয়েছিলো। আকাশ ফাটানো চিৎকার। অনেকেই জমা হয়ে গেছে আওয়াজে।
গুলির আওয়াজ শুনে মা ও বেরিয়ে এলো। জিজ্ঞেস করলো, কি অপরাধে আমার বাবাকে তোরা মেরেছিস?
অভিশাপ এই নাস্তিক কম‍্যুনিস্ট রাজত্বের জন্যে।
সে আরো বলছিলো, আয় আল্লাহ, ইসলামকে আবার বিজয়ী করো। আমাদের মুক্তি দাও।
এর অতিরিক্ত কিছু বলার সুযোগ সে পেলো না।
এক পশলা গুলির বৃষ্টি এসে তার বুকটাও এফোর ওফোর করে দিলো।

তারা চলে গেলো পৃথিবী ছেড়ে। কিন্তু আমাদের জন্যে রেখে গেলো এক মহান শিক্ষা।
ইসলামেই একমাত্র শান্তি। অন‍্য কোথাও শান্তি নেই।
যারাই শান্তির বাণী শুনিয়ে ব‍্যবসা করে, তাদের ওসব শুধু মুখরোচক ভাষাতেই সীমাবদ্ধ, কাজে তার কোন বাস্তবতা নেই।
শান্তি আর মানবতার মুক্তি একমাত্র ইসলামেই আছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার বিয়োগে আমরা মর্মাহত, ভারাক্রান্ত হে মহাননেতা!

  এখনো আশাবাদী, ইয়াহইয়া আস সিনওয়ার, হিজড়াঈলিদের সকল প্রোপাগান্ডা মিথ্যা প্রমাণিত করে, আবারো জীবিত ফিরে আসবেন। আর যদি তিনি চিরবিদায় নিয়...