রবিবার, ১৩ মে, ২০১৮

রোজার তাৎপর্য ও আধুনিক মাসায়েল



লিখেছেন---এনামুল হাসান কাসেমী


نحمدك يا من أنزل علينا القرآن في رمضان وجعله هداية للإنسان ونصلي على من جعله الله خير الأنام.؛
 ২য় পর্ব
- - - - - - - - - -

রোজার হুকুম :

'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''
* প্রত্যেক আকেল (বোধ সম্পন্ন), বালেগ ( বয়সপ্রাপ্ত) ও সুস্থ্য মুসলিম নার-নারীর উপর রোজা রাখা ফরয।

* ছেলে মেয়ে দশ বৎসরের হয়ে গেলে তাদের দ্বারা (রোজা তাকীদ দিয়ে হলেও) রোজা রাখানো কর্তব্য। এর পূর্বে ও শক্তি হলে রোজা রাখার অভ্যাস করানো উচিত।

* বৎসরে পাঁচ দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ বা হারাম। ঐ পাঁচ দিন হল দুই ঈদের দিন এবং ঈদুল আহার পরের তিন দিন।

* এক দেশে রোজা শুরু করার পর অন্য দেশে চলে গেলে সেখানে যদি নিজের দেশের তুলনায় আগে ঈদ হয়ে যায়, তাহলে নিজের দেশের হিসাবে যে কয়টা রোজা বাদ গিয়েছে তার কাযা করতে হবে। আর যদি সেখানে গিয়ে রোজা এক দুটো বেড়ে যায় তাহলে তা রাখতে হবে।

সূত্র :(  জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া খন্ড ১,
            আহসানুল ফাতাওয়া খন্ড ৪) ।

রোযার নিয়তের মাসায়েল :

'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''
* রমজানের রোজার জন্য নিয়ত করা ফরয। নিয়ত ব্যতীত সারাদিন পানাহার ও যৌনতৃপ্তি থেকে বিরত থাকলেও রোজা হবে না।

* মুখে নিয়ত করা জরুরী নয়। অন্তরে নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে, তবে মুখে নিয়ত করা উত্তম।

* মুখে নিয়ত করলেও আরবীতে হওয়া জরুরী নয়-যে কোন ভাষায় নিয়ত করা যায়। নিয়ত এভাবে করা যায় -
 আরবীতে نويت بصوم اليوم অথবা بصوم غد نويت
বাংলায়ঃ আমি আজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

* সূর্য ঢলার দেড় ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত রামাযানের রোজার নিয়্যাত করা দুরাস্ত আছে, তবে রাতেই নিয়ত করে নেওয়া উত্তম।

* রমজান মাসে অন্য যে কোন প্রকার রোজা বা কাযার নিয়ত করলেও এই রমজানের রোজা আদার হবে- অন্য যে রোজার নিয়ত করবে সেটা আদায় হবে না।

* রাতে নিয়ত করার পরও সুবহে সাদেকর পূর্ব পর্যন্ত পানাহার ও যৌনকর্ম জায়িয। নিয়ত করার সঙ্গে সঙ্গেই রোজা শুরু হয় না,বরং রোজা শুরু হয় সুবহে সাদেক থেকে।
সূত্র :(  জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া খন্ড ১,
            আহসানুল ফাতাওয়া খন্ড ৪) ।

সাহরীর মাসাইলঃ 

'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''
    * সাহরী খাওয়া জরুরী নয় তবে
সাহসী খাওয়া সুন্নাত, অনেক ফযীলতের আমল, তাই ক্ষুধা না লাগলে বা খেতে ইচ্ছে না করলেও সাহরীর ফযীলত হাছিল করার নিয়তে যা-ই হোক কিছু পানাহার করে নিবে।

* নিদ্রার কারণে সাহরী খেতে না পারলেও রোজা রাখতে হবে। সাহরী না খেতে পারায় রোজা না রাখা অত্যন্ত পাপ।

* সাহরীর সময় আছে বা নেই নিয়ে সন্দেহ হলে সাহরী না খাওয়া উচিত। এরুপ সময়ে খেলে রোজা কাযা করা ভালো। আর যদি পরে নিশ্চিত ভাবে জানা যায় যে, তখন সাহরীর সময় ছিল না, তাহলে কাযা করা ওয়াজিব।
* সাহরীর সময় আছে মনে করে করল অথচ পরে জানা গেল যে, তখন সাহরীর সময় ছিল না, তাহলে রোজা হবে না, তবে সারাদিন তাকে রোজাদারদের ন্যায় থাকতে হবে এবং রামাযানের পর ঐ দিনের রোজা কাযা করা ওয়াজিব।

* বিলম্বে সাহরী খাওয়া উত্তম। আগে খাওয়া হয়ে গেলেও শেষ সময় নাগাদ কিছু চা-পানি ইত্যাদি করতে থাকলেও বিলম্বে সাহসী করার ফযীলত অর্জিত হবে।

সূত্র :  ফতোওয়ে রহিমিয়হ খন্ড  ৩,
           আহসানুল ফতোয়া  খন্ড  ৪,
           জাওয়াহিরুল ফিকহ খন্ড ১,)

ইফতার-এর মাসাইলঃ

'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''
* সূর্য অন্তিম হওয়ার পর বিলম্ব না করে তারাতারি ইফতার করা মুস্তাহাব। বিলম্বে ইফতার করা মাকরূহ।

* মেঘের দিনে কিছু দেরি করে ইফতার করা ভাল। মেঘের দিনে ঈমানদার ব্যক্তির অন্তরে সূর্য অস্ত গিয়েছে বলে সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত বছর করা ভাল। শুধু ঘড়ি বা আযানের উপর নির্ভর করা ভাল নয়, কারণ তাতে ভুলও হতে পারে।

* সবচেয়ে উত্তম হল খোরমা দ্বারা ইফতার করা, তারপর কোন মিষ্টি জিনিস দ্বারা তারপর পানি দ্বারা।
* লবণ দ্বারা ইফতার শুরু করা উত্তম এই আকীদা ভূল।

* ইফতার করার পূর্বে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবে। দুআ পাঠ করা মুস্তাহাব।
   ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ زُهْرَةَ ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ : " اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ  أَفْطَرْتُ ".
حكم الحديث: ضعيف
  ( আবু দাউদ হাঃ ২৩৫৮ তবে হাদিসটি যঈফ     বলেছেন )

* ইফতার করার পর নিম্নের দোয়া পাঠ করবে-

، وَقَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ : " ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ".
حكم الحديث: حسن
      ( আবু-দাউদ হাঃ ২৩৫৭ হাদীসটি হাসান )
ইফতারের পূর্বে বা কিছু ইফতার করে বা ইফতার থেকে সম্পূর্ণ ফারিগ হয়ে দুআ করা মুস্তাহাব।

* পশ্চিম দিকে প্লেনে সফর শুরু করার কারণে যদি দিন লম্বা হয়ে যায় তাহলে সুবহে সাদেক থেকে নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সূর্যাস্ত ঘটলে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইফতার বিলম্ব করতে হবে, আর ২৪ ঘন্টার মধ্যেও সূর্যাস্ত না ঘটলে ২৪ ঘন্টা পূর্ণ হওয়ার সামান্য কিছু পূর্বে ইফতার করে নিবে।

* পূর্ব দিকে প্লেনে সফর করলে যখনই সূর্যাস্ত পাবে তখনই ইফতার করবে।

সূত্র :  জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া খন্ড ১,
            আহসানুল ফাতাওয়া খন্ড ৪) ।


যে সব কারণে রোজা ভাঙ্গে না এবং মাকরূহও হয় 

'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''
নাঃ
'' '' '' '' ''
১- মিসওয়াক করা। যেকোন সময় হোক, কাঁচা হোক বা শুকনা।

২- শরীর বা মাথা বা দাড়ি গোঁপে তেল লাগানো।
৩- চোখে সুরমা লাগানো বা ঔষধ দেওয়া।

৪- খুশবু লাগানো বা তার ঘ্রাণ নেওয়া।


৫- ভুলে কিছু পান করা বা আহার করা।

৬- গরম বা পিপাসার কারণে গোসল করা বা বারবার কুলি করা।

৭- অনিচ্ছা বশতঃ গলার মধ্যে ধোঁয়া, ধুলাবালি বা মাছি ইত্যাদি প্রবেশ করা।

৮- কানে পানি দেওয়া বা অনিচ্ছা বশতঃ চলে যাওয়ার কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না, তবে ইচ্ছাকৃত ভাবে দিলে সতর্কতা হল রোজা কাযা করে নেওয়া।
( জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া খন্ড 1)

৯- অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হওয়া। ইচ্ছাকৃত ভাবে অল্প বমি করলে মাকরূহ হয় না, তবে এরূপ করা ঠিক নয়।
১০- স্বপ্ন দোষ হওয়া।
১১- মুখে থুথু আসলে গিলে ফেলা।

১২- যে কোন ধরনের ইনজেকশন বা টিকা লাগানো। তবে রোজার কষ্ট যেন বোধ না হয়-এ উদ্দেশ্যে শক্তির ইনজেকশন বা স্যালাইন লাগানো মাকরূহ।

১৩- রোযা অবস্থায় দাঁত উঠলে এবং রক্ত পেটে না গেলে।

১৪- পাইরিয়া রোগের কারণে যে সামান্য রক্ত সব সময় বের হতে থাকে এবং গলার মধ্যে যায় তার কারণে।

১৫- সাপ ইত্যাদি দংশন করলে।

১৬ - পান খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলি করা সত্ত্বেও যদি থুথুর লালাভাব থেকে যায়।

১৭- শাহওয়াতের সঙ্গে শুধু নজর করার কারনেই যদি বীরযপাত ঘটে যায় তাহলে রোজা ফাসেদ হয় না।

১৮- রোযা অবস্থায় শরীর থেকে ইনজেকশনের সাহায্যে রক্ত বের করলে রোজা ভঙ্গে না এবং এতে রোজা রাখার শক্তি চলে যাওয়ার মত দুর্বল হয়ে পড়ার আশংকা না থাকলে মাকরূহও হয় না।

সূত্র : ১- আহসানুল ফাতাওয়া খন্ড ৪,
        ২ - জাওয়াহিরূল ফাতাওয়া খন্ড ১,
        ৩ - ফাতাওয়ে রহিমিয়াহ খন্ড ৩,
        ৪ - ফাতাওয়ে মাহমুদিয়া খন্ড ৩,।

চলবে,,,

শনিবার, ১২ মে, ২০১৮

কে দিয়েছে নারীর সম্মান (২)?



লিখেছেন--- মুআয আল জুহানী


এক যুবকের আর্তচিৎকারে হঠাৎ চতুর্দিক প্রকম্পিত হলো।

চারদিক থেকে মানুষজন আসতে শুরু করেছে। ছোট্ট ক‍্যাম্পটি লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে।
,,,,,,,،،،،،,,,,,,

আমি তোমাদের শুনাচ্ছি এক নিপীড়িত জাতির করুন ইতিহাস।

১৯২৩ সাল। কিছুদিন হলো,রুশ বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। বিশ্বের বৃহৎ পরাশক্তি রাশিয়া চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে। বিপ্লবীরা ছিলো বলসেভিক লাল সেনা।
তারা দেশ দখলের পরই পুরো দেশে তান্ডব চালিয়েছে। তাদের স্লোগানতো সকলেরি জানা ছিলো।সেই  পুরোনো এক স্লোগান।কেউ খাবে আর কেউ খাবে না,তা হবে না তা হবে না।
তাদের এ মুখরোচক স্লোগানে সবাই প্রথমে ধোঁকা খেয়েছিলো। যখন সকলে তাদের এ মিথ্যা টোপ সম্পর্কে অবগত হলো, সকলে তাদের উপর রাগে ক্ষোভে ফুঁসতে লাগলো।
১৯১৭তে বিপ্লব সংগঠিত হয়।ছ’বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এপর্যন্ত জনগণ উন্নয়নের কোন আভাস পায় নি।
কিন্তু লাল কম‍্যুনিস্ট বাহিনী তাদের সকল স্বাধীনতাই কেড়ে নিয়েছে। তাদের জায়গা-সম্পত্তি,ভিটে-বাড়ী সবি। এমনকি কোন যুগলকেও একত্রে থাকতে দেয়নি তারা।
এখন সবাই সরকারের অধীনে কাজ করবে,সমান খাবে,সমান পরবে।
তাদের সমান অধিকারের দাবি বাস্তবায়ন করবে।

এভাবেই সব চলা শুরু হয়েছে। পুরুষ মহিলা সকলে ক্ষেতে কাজ করে। সকলের পোষাক ও সমান। হাতাকাটা গেঞ্জি আর হাফ প্যান্ট। বড় কোন পোশাক হলেতো বেশি খরচ হবে।আর সেটা নিন্দনীয়।
কাজ শেষে সবাই হাসপাতালের ন‍্যায়  একসাথে ঘুমায়।
স্ত্রী সন্তান সব পৃথক করে দিয়েছে তারা।

একটা যুবক কতদিন আর থাকতে পারে আপন স্ত্রী ছাড়া?

বছর খানেক যাবত চলছে এই অত‍্যাচার।
একদিনের ঘটনা, জাফর ইকবাল নামের এক টগবগে যুবকের প্রচন্ড যৌন চাহিদা পেয়ে বসেছে। কিন্তু তার স্ত্রীকে যে তারা ধরে নিয়ে গেছে।

যৌন ক্ষুধা মেটাতে তারা তৈরী করেছে যৌননিবাস।কারো ক্ষুধা পেলে সেখানে যাবে।
সেখানে গিয়েই তার চাহিদা মেটাতে হবে।

জাফর ইকবাল নিজেকে আর সংবরণ করতে পারছিলো না।
সে পতিতালয়ে যাচ্ছে। এক পা এগুচ্ছে তো আরেক পা পিছুচ্ছে।
কিন্তু নিজেকে সে আর ধরে রাখতে পারছিলো না।
অবশেষে সে পৌঁছেছে পতিতালয়ে।মোটা, কালো একটা মহিলা বসে আছে, গেইটে। তাকে জিজ্ঞেস করলো,কী? লাগবে নাকি?
জাফর ইকবাল বললো হুম।
মহিলাটি তার জন্যে একটা কামরার দড়জা খুলে দিলো।

দুরুদুরু বুকে সে প্রবেশ করতে লাগলো, আস্তে আস্তে আন্দরে পৌঁছে গেছে সে।
অন্ধকার,প্রকট অন্ধকার। ভয়ে ভয়ে সে জানালাটা খুললো। সূর্যের আলোয় রুমটা পুরো আলোকিত, উদ্ভাসিত হয়ে গেলো। এতক্ষণে সে ভিতরে চোখ তুলে তাকিয়েছে।একটি পরিচিত চেহারা তার সামনে ধরা দিলো।
এ যে অন‍্য কারো চেহারা নয়।এ যে তার মমতাময়ী মায়ের করুন মুখ।
সে আর সহ‍্য করতে পারলো না। সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে চিৎপটাং হয়ে পড়ে গেলো।সে জ্ঞান হারিয়েছে। সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়েছে তার মা ও। কতদিন যাবত তার মায়ের সাথে সাক্ষাৎ নেই।দেখা নেই। কথা নেই। বহুদিন পর আজ সাক্ষাত হলো। তবুও এ পরিস্থিতিতে। সে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারেনি।
কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলো।মায়েরো জ্ঞান ফিরেছে।সে ছেলেকে শুনাতে লাগলো তার করুন ইতিহাস।
আর ধিক্কার দিতে লাগলো, বলতে লাগলো, এই কি তোর কম‍্যুনিস্ট নাস্তিক লাল কুত্তা বাহিনীর সাম‍্যনীতি?
ছিঃ। আল্লাহ যে কেন আমার স্বামীর সাথে মৃত্যু দেয়নি আমাকে। তাহলেতো তাদের এ জুলুম থেকে বাঁচতে পারতাম।হায় আল্লাহ, আমার মৃত্যু দাও।

জাফর ইকবাল ও নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। বুঝতে পেরেছে সে, নাস্তিকতায় কোন শান্তি নেই।
ইসলামই একমাত্র শান্তির ধর্ম।

সে আস্তে করে বাহিরে বের হয়ে গেলো।
মোটা দারোগানীটা জিজ্ঞেস করলো,কী? কাজ হয়েছে?
সে বললো, না।
আবার তার জিজ্ঞেস, কেনো না?
জাফর ইকবালের উত্তর, সে আমার মা।
আমি তার সাথে কিছু করতে পারবো না।
মহিলাটি আবার প্রশ্ন করলো, কেন ?
কি সমস্যা তাতে?
জাফর ইকবাল উত্তর দিলো, আমার বিবেক তা সাপোর্ট করে না।
এবার মহিলাটি গরম হয়ে গেলো।
সে বলতে লাগলো, আমরা বিবেক-টিবেক কিচ্ছু বুঝি না। আমাদের দেশে থাকতে হলে, আমাদের নীতি মানতে হবে,
সে আবারো অস্বীকার করলো।
এবার মহিলাটি পাশে টহলরত দুজন রক্ষীকে ডাকলো। তারা উপস্থিত হতেই তাদেরকে আদেশ করলো, ব্রাশফায়ার করে একে উড়িয়ে দাও। মুহুর্তেই দুটো ক্লাসিনকোভের এক ঝাঁক গুলি এসে জাফর ইকবালের শরিরটা ঝাঁঝরা করে দিলো। সে শুধু একটা চিৎকার দিয়েছিলো। আকাশ ফাটানো চিৎকার। অনেকেই জমা হয়ে গেছে আওয়াজে।
গুলির আওয়াজ শুনে মা ও বেরিয়ে এলো। জিজ্ঞেস করলো, কি অপরাধে আমার বাবাকে তোরা মেরেছিস?
অভিশাপ এই নাস্তিক কম‍্যুনিস্ট রাজত্বের জন্যে।
সে আরো বলছিলো, আয় আল্লাহ, ইসলামকে আবার বিজয়ী করো। আমাদের মুক্তি দাও।
এর অতিরিক্ত কিছু বলার সুযোগ সে পেলো না।
এক পশলা গুলির বৃষ্টি এসে তার বুকটাও এফোর ওফোর করে দিলো।

তারা চলে গেলো পৃথিবী ছেড়ে। কিন্তু আমাদের জন্যে রেখে গেলো এক মহান শিক্ষা।
ইসলামেই একমাত্র শান্তি। অন‍্য কোথাও শান্তি নেই।
যারাই শান্তির বাণী শুনিয়ে ব‍্যবসা করে, তাদের ওসব শুধু মুখরোচক ভাষাতেই সীমাবদ্ধ, কাজে তার কোন বাস্তবতা নেই।
শান্তি আর মানবতার মুক্তি একমাত্র ইসলামেই আছে।

রোজার তাৎপর্য ও আধুনিক মাসায়েল


লিখেছেন----এনামুল হাসান কাসেমী


،نحمدك يا من  أنزل علينا القرآن في رمضان وجعله هداية للإنسان، ونصلي على من جعله الله خير الأنام.؛

কিছুদিন পরই পবিত্র রামাযান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। এই মাসের ফযীলত আর বরকত সম্পর্কে জানে না, এমন মুসলমান নেই বললেই চলে। আল্লাহ তায়ালা এ মাস তার ইবাদত করার জন্য দান করেছেন। অজানা বহু রহমত আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে এ মাসে দান করেন। যেসব রহমতের কল্পনা আমরা করতেও পারি না।

এই মাসটি কে রামাযান মাস বলা হয় কেন.?

#রামাযান শব্দের অর্থ :
- - - - - - - - - - - - - - - - - -
আমরা 'রামাযান' শব্দটির 'মীম' অক্ষর সাকিনের সাথে ভুল উচ্চারণ করে থাকি। সঠিক শব্দ হচ্ছে - 'রামাযান' অর্থাৎ যবরবিশিষ্ট 'মীম' - এর সাথে।

'রামাযান' শব্দটির অর্থ অনেকে অনেক ভাবে করেছেন। মূলত আরবী ভাষায় শব্দটির অর্থ - 'দগ্ধকারী, দাহনকারী, জ্বালানি, ইত্যাদি।
( কামুস, খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৪৯০)
ওলামায়ে কেরাম বলেন, মাসটিকে 'রামাযান' নামে আখ্যায়িত করার কারণ হচ্ছে, এ মাসে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় রহমত ও ফজলে বান্দার সকল গুনাহ জ্বালিয়ে দগ্ধ করে দেন।

রোযা ফার্সি শব্দ আরবীতে বলা হয় 'সাওম' আর 'সাওম' এর বহু বচন 'সিয়াম'
সাওম-এর আভিধানিক অর্থ :
الصوم لغة الإمساك مطلقاً؛
যেকোন কিছু থেকে বিরত থাকা।
সাওম-এর পারিভাষিক অর্থ :
وفي الشرع هو الإمساك نهاراً عن إدخال شيء عمداً أو خطأ بطنا أو ما له حكم البطن وعن شهوة الفرج بنية من أهله.؛  ( قواعد الفقه)
শরীআতের পরিভাষায়, যার উপর রোজা রাখা ফরয এমন ব্যক্তির রোযার নিয়তে দিনের বেলায় ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে পেটে অথবা শরীরের যে অংশ পেটের হুকুম রাখে ( যেমন, মস্তিষ্ক) তাতে কোন বস্তু দাখিল করা থেকে এবং যৌনাঙ্গের চাহিদা থেকে বিরত থাকাকে সাওম তথা রোজা বলে।
সাধারণ ভাষায় সহজ - সরলভাবে রোযার পরিচয় এভাবে দেওয়া হয় - সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়ত সহকারে ইচ্ছাকৃতভাবে পান, আহার ও যৌন তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাকে রোযা বলা হয়।

কখন রোযা ফরয হয়েছিল :

'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' " "  " "
হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রামাযানের রোযা ফরয হয়। এর পূর্বে রাসূল সাঃ ও সাহাবায়ে কিরাম আশূরা-র রোযা এবং আইয়্যামে বীযের রোযা রাখতেন। হানাফীদের মতে আশূরা-র রোযা তখন ফরয ছিল। তবে শাফিঈদের মতে রামাযানের রোযার পূর্বে অন্য কোনো রোযা ফরয ছিল না।
হানাফীদের মতের পক্ষে আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীসকে বিশেষভাবে দলীল হিসাবে পেশ করা যায়।
عن عبد الرحمن بن مسلمة عن عمه إن أسلم أتت النبي صلى الله عليه وسلم فقال: صمتم يومكم هذا ( أي يوم عاشوراء) قالوا لا: قال فأتموا يومكم واقضوه؛ ( رواه أبو داود رقم الحديث ٢٤٤٤)
অর্থাৎ, আসলাম গোত্রের লোকেরা নবী কারিম সঃ এর কাছে আসল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা আজ ( এই আশূরার দিন) রোযা রেখেছে কি? তারা বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে অবশিষ্ট দিনটুকু রোযার মত পূর্ণ করে নাও আর এ দিনের রোযার কাযা করে নিও।
( আবু দাউদ হাঃ ২৪৪৪)

এখন 'কাযা' শব্দটি স্পষ্টতই এ দিনের রোযা ফরয ছিল বলে বোঝায়। তবে পরবর্তীতে এই ফরয মানসূখ বা রহিত হয়ে যায়।

রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য :

'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''
‘ছিয়াম’ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি।
(মুত্তাফাক আলাইহি, মিশকাত হাঃ ৪)
ধনী-গরীব সকল প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের উপর রামাযান মাসে ছিয়াম পালন করা ফরয।
একজন মানুষের সুন্দর ও স্বচ্ছভাবে জীবন যাপনের জন্য যে ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার, ছিয়াম তার মধ্যে সে ধরনের গুণ-বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে থাকে।
এ মাসে বান্দার জন্য আল্লাহর রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করা হয় এবং বান্দার ইবাদতে বাধা প্রদানকারী শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,

إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ- وَفِيْ رِوَايَةٍ: فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِيْنُ- وَفِيْ رِوَايَةٍ: فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ-

‘যখন রামাযান মাস আগমন করে তখন আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়। অন্য বর্ণনায় আছে, জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রহমতের দ্বার সমূহ খুলে দেয়া হয়’।
   ( মুত্তাফাক আলাইহি, মিশকাত হাঃ ১৯৫৬)

তিনি আরও বলেন,

إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِّنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِيْنُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ وَيُنَادِيْ مُنَادٍ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ، وَلِلّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ-

‘যখন রামাযান মাসের প্রথম রাত্রি আসে, তখন শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলোকে শৃঙ্খলিত করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়, অতঃপর উহার কোন দরজাই খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়, অতঃপর উহার কোন দরজাই আর বন্ধ করা হয় না। এ মাসে এক আহবানকারী আহবান করতে থাকেন, হে কল্যাণের অভিযাত্রীরা! অগ্রসর হও। হে অকল্যাণের অভিসারীরা! বিরত হও। আল্লাহ তা‘আলা এই মাসে বহু ব্যক্তিকে জাহান্নাম হ’তে মুক্তি দেন। আর তা (মুক্তি দেয়া) প্রত্যেক রাত্রিতেই হয়ে থাকে’।
( শু-আবুল ঈমান হাঃ ৩৫৯৮)

‘ছিয়াম’ মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
 الصِّيَامُ جُنَّةٌ
ছিয়াম ঢাল স্বরূপ’ ( মুত্তাফাক আলাইহি, মেশকাত হাঃ ১৯৪৯)
শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন,
والمراد أنه حجاب وحصن للصائم من المعاصى.
‘ঢাল দ্বারা উদ্দেশ্য হল- ছিয়াম পাপাচার থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে ছায়েমের জন্য পর্দা ও রক্ষাকবচ’।
( মেশকাত হাঃ ১৯৪৯, ১/৬১১টিকা)
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কারো ছিয়াম পালনের সময় হবে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং ঝগড়া না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় কিংবা তার সাথে লড়াই করে, তাহ’লে সে যেন বলে, আমি ছায়েম’।
( মুত্তাফাক আলাইহি, মেশকাত হাঃ ১৯৫৯)
মানুষের জন্য ছিয়াম পালনের গুরুত্ব রয়েছে বলেই আল্লাহ তা‘আলা উম্মতে মুহাম্মাদী সহ পূর্ববর্তী উম্মতের জন্যও তা ফরয করে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেছেন,
يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم لعلكم تتقون.؛

‘হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা মুত্তাক্বী হ’তে পার’ (সূরা বাকারাহ ২/১৮৩)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ‘
তোমাদের মধ্যে যে এ মাসকে পায় সে যেন ছিয়াম রাখে’ (সূরা বাকারাহ ২/১৮৫)

রামাযানের ছিয়ামের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা প্রতি বছর মুসলমানদের ঈমানের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। এই পরীক্ষায় যখন মানুষ উত্তীর্ণ হয়, তখন তার মধ্যে আল্লাহকে ভয় করার ও যাবতীয় গোনাহ হ’তে বিরত থাকার যোগ্যতা অধিক পরিমাণে বেড়ে যায়। তখন সে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব কিছুই আল্লাহ জানেন ও দেখেন মনে করে গোপনেও আল্লাহর হুকুম অমান্য করতে পারে না। যে ব্যক্তি প্রকৃত ছিয়ামপালনকারী সে তীব্র গরমের সময় কলিজা ফেটে যেতে চাইলেও এক ফোটা পানি পান করে না। অসহ্য ক্ষুধার জ্বালায় শরীর দুর্বল হ’লেও সামান্য খাদ্য মুখে দেয় না। এত ত্যাগ, ধৈর্য স্বীকার করে ছিয়াম পালন করা একমাত্র আল্লাহর জন্যই হয়ে থাকে। তাই এর প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ দিবেন।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, 
 فَإِنَّهُ لِيْ وَ أَنَا أَجْزِيْ بِهِ.

 ‘নিশ্চয়ই ছিয়াম আমার জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দিব’।
(মুত্তাফাক আলাইহি, মেশকাত হাঃ ১৯৫৯)
এছাড়াও রামাযানের আরও কিছু গুরুত্ব পরিলক্ষিত হয়। যেমন-
১-সামগ্রিক কল্যাণ :
'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''
ইসলামে ছিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম।
 মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানসিক ও শারীরিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে ছিয়ামের প্রভাব অতিশয় কার্যকর ।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
 وَأَنْ تَصُوْمُوْا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْن-
‘আর তোমাদের ছিয়াম পালন করা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে,
 (সূরা বাকারাহ ২/১৮৪)

২-কুরআন নাযিলের মাস :
'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''
 পবিত্র কুরআন নাযিল হওয়ার কারণে এ মাসে ছিয়ামের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ‘রামাযান মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল-কুরআন। যা মানুষের হেদায়াত এবং সৎপথের সুস্পষ্ট নির্দেশ ও সত্য- মিথ্যার পার্থক্যকারী। সুতরাং যে ব্যক্তি রামাযান মাস পায় সে যেন ছিয়াম পালন করে’( সূরা বাকারাহ ২/১৮৫)

চলবে,,,,,,

বুধবার, ৯ মে, ২০১৮

দাসপ্রথা ও ইসলাম

প্রথম পর্ব 

লিখেছেন---আশরাফ আলম কাসেমী


যারা বলে ইসলামে গোলাম বাদীর প্রথা কেন? উত্তরের আগে তাদের নিকট একটা প্রশ্ন, গোলাম বাদীর এই প্রথা কখন থেকে অস্তিত্বে এসেছে ? এটির প্রবর্তক কারা? ইসলাম তো গোলাম বাদীর প্রথার সূচনা করেনি।
বরং ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা, যে তদানীন্তন কালে প্রচলিত গোলাম বাদীদের জন্যে একটি ন্যায় , সুষ্ঠু, সুন্দর ব্যবস্থার প্রবর্তন ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। গোলামকে মুক্ত করে দেওয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। মুক্তকারীকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বিশাল সাওয়াব ও উত্তম প্রতিদানের।

তাহলে কোথা থেকে উৎপত্তি হলো এই দাস প্রথার? কারা করল? কখন করল? 


ইতিহাস তো বলে কোনো ইতিহাসবেত্তাই এর সঠিক সমীকরণ নির্ধারণ করতে পারেনি।
প্রথাটির ভিত্তি তখনই স্থাপিত হয় যখন থেকে মানব জাতির জীবন যাত্রা শুরু হয়। প্রত্যেক জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী, গোত্র ও সম্প্রদায়েই এর প্রচলন ছিল। ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, আর্য ও দ্রাবিড় সহ সকল ধর্মবিশ্বাস ও জীবন ব্যবস্থাতেই গোলাম বাদীর প্রথা বিদ্যমান ছিল। সব যুগেই তাদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হত।

আর ইসলাম পূর্ব সময়ে গোলাম বাদীদের সাথে যে ব্যবহার করা হত তার লৌমহর্ষক বর্ননা কিতাব সমূহের পাতায় পাতায় বিদ্যমান। গোলামদের সাথে পশুর চেয়েও হাজার গুণে বেশী দূর্ব্যবহার করা হত। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের কোনো ব্যবস্থা করা হত না। সামান্যতম অপরাধের কারনে প্রহার করতে করতে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দিত। একবার কারো গলায় গোলামীর হার পরে গেলে তা থেকে উদ্ধার হওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। দরিদ্রতার কারনে মা-বাবা নিজ সন্তানকে গোলাম বানিয়ে বিক্রি করে দিত। গোলাম বাদীদের প্রতি চরমভাবে ঘৃণা ও বিদ্বেষ পোষন করা হত। দুর্বলদের যে কাউকে ধরে নিয়ে হাঁট-বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হত। পথচারীকে ধরে গোলাম বানিয়ে রাখত। সমাজের সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা সহ অসংখ্য অমানবিকতার প্রচলন ছিল।

ইসলামের আবির্ভাবের পর হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা এই প্রথাকে তাৎক্ষণিকভাবে একেবারেই মিটিয়ে দেওয়া দূরহ ছিল। তাই অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে মানবতার প্রতি দরদী আইনের আলোকে ধীরে ধীরে শিথিলতার দিকে এগিয়ে যায়।

পক্ষান্তরে  ইসলাম দুই প্রকার কানূন প্রনয়ণ করে। (১) সালবী তথা সমূলে বিলুপ্ত করে দেয়া। যেমন  মূর্তিপূজা, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা ইত্যাদি। (২)  ইজাবী তথা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত করে দেয়া। এটি আবার দুই প্রকার। (১) ধীরে ধীরে বিলুপ্ত করে হারাম সাব্যস্ত করে দেয়া। যেমন মদ জোয়া ইত্যাদি। (২) একেবারেই বিলুপ্ত না করে তাতে শিথিলতা এনে বিশেষ কোনো প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে বহাল রাখা। যেমন গোলাম বাদীর মাসআলা।
ইসলাম এটিকে নিছক পূর্বপ্রচলিত প্রথা হিসেবে রেখেছে। আর এর মধ্যে যত কুসংস্কার, অন্ধকারচ্ছন্নতা ও অমানবিক নির্যাতন, মানবতার বিপর্যয় ছিল সবগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে,গোলাম বাদীদের জন্যে সুষ্ঠু, সুন্দর, সুষম ও ন‍্যায‍্য অধিকা নিশ্চিত করেছে।

কোরআন, হাদীসে এ সম্পর্কে অসংখ্য বানী রয়েছে।  


মালিক কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তোমরা গোলাম বাদীদের সাথে সদ্ব্যবহার করো, তোমরা যা খাবে তাদেরও তা খেতে দাও, যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরিধান করতে দাও। গোলামদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তোমরা স্বীয় মনিবদের রব বা প্রভু বলে ঢেকো না। বরং মালিক বলে সম্বোধন করবে। কেননা তোমাদের প্রভু এক আল্লাহ। যিনি তোমাদের ও তোমাদের মালিকদের সৃষ্টিকারী। মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তোমরা অধিনস্তদের গোলাম বাদী বলে সম্বোধন করো না। এটা তাদের জন্য পীড়াদায়ক শব্দ । নিজের ছেলে-মেয়েকে যেভাবে সম্বোধন করো তাদেরকেও সেভাবে সম্বোধন কর। এবং স্বাধীন ব্যাক্তিকে গোলাম বানাতে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ফলশ্রুতিতে  দূর-দূরান্তে সফর কালে গোলাম উটের উপর বসে থাকত, আর মনিব উটের লাগাম ধরে পায়ে হেঁটে চলতেন। যেমনটা অর্ধ জাহানের শাসক হযরত উমর রা. এর জীবনী থেকে পাওয়া যায়।

যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করতেও ইসলাম করেছে এক অভিনব ব্যবস্থার প্রনয়ণ। নামে মাত্র মুক্তিপণ, মুসলিম বন্দিদের মুক্ত করার শর্তে মুক্তিদান, মক্কা থেকে মাদিনায় নবী দুলালীকে প্রেরণের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া, মুক্তিপণে অক্ষম হলে মুসলিম বাচ্চাদের লেখাপড়া শিখানোর বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া, তাতেও সক্ষম না হলে একেকজনকে একেক মুসলমানের হাতে তুলে দেওয়া হত। মুসলমানরা যুদ্ধবন্দীদের সাথে সর্বোত্তম আচরণ করতেন। নিজেরা খেজুর খেয়ে জীবনধারন করতেন। আর বন্দিদের রুটি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতেন । এসব পন্থা সহ আরও নানান পদ্ধতিতে যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর অন্য কোন জাতী-সম্প্রদায়, ধর্ম-গোষ্টিতে নেই।

একটিমাত্র বিধানের ক্ষেত্রে ইসলামের এত দরদমাখা আচরণ ও সৌন্দর্য জানার পরেও যারা ইসলামের বিকৃতি সাধনের লক্ষ্যে, মুসলমানদেরকে সংশয়পরায়ণ করে তোলার উদ্দেশ্যে, ঈমানহারা করার মানসে, ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের (আরবীতে যাদেরকে মুস্তাশরীকীন বলা হয়) উঠানো প্রশ্নগুলোর নবায়ন করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত, আত্মধোকায় নিমজ্জিত। তাদেরও হয়ত খুব ভালো করেই জানা আছে যে, আমরা যাদের ইশারায় চলছি তারা (মুস্তাশরীকীনরা) মুসলমানদের লিখনির জবাবে ঠিকে থাকতে পারেনি। আমরাও পারব না। কিন্তু কিছু ফায়দা তো হবে যে, এসবের মাধ্যমে পকেট গুলো ভারী রাখা যাবে। ফ্রান্স, জাপান, আমেরিকা ইংল্যান্ডের ভিসা পাওয়া যাবে। এটা কি কম(?)
পশ্চিমা ঔপনিবেশিকরা নিজেদের হীন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নতুন চালে লিপ্ত, যার স্বীকার সংশয়বাদী বা তথাকথিত নাস্তিক্যবাদ। তারা ভাবছে আমরা নিজেদের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছি তাতে কি হয়েছে? এখন মুসলমানদের দ্বারা মুসলমানদেরকে সংশয়বাদী বানাবো। যারা নিজেদেরকে নাস্তিক বলে দাবী করবে।

তাই বলছি আপনারা মুসলমানের সন্তান, আমাদের ভাই, আপনাদের পরিনাম আছে, সে ব্যাপারে সতর্ক হোন। তওবা করে ফিরে আসুন। দুনিয়া আখেরাতের অফুরন্ত নেয়ামতরাজীর অংশীদার হোন। শান্তির সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিন। মহাপরাক্রমশালী সর্বময় ক্ষমতার অধিপতি অতিশয় দয়ালু আল্লাহ তা'আলা তওবাকারীর অতীতের সকল পঙ্কীলতা, যাবতীয় অপরাধ মোছনকারী । তিনি সর্বোত্তম, ক্ষমাশীল।

(বিস্তারিত প্রমানাদি পরবর্তী লিখায় দ্রষ্টব্য ইনশাআল্লাহ )

সোমবার, ৭ মে, ২০১৮

"বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ" ৪র্থ পর্ব (খ) জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় "বিকৃত ইতিহাস"

লিখেছেন----সাঈদ আল মাহদী

ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে সুলতান মাহমুদ গজবীর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আমাদের জাতীয় সিলেবাসে "মূর্তি সংহারক""মূর্তি বিচূর্ণকারী" "মন্দির বিদ্বেষী "রূপ দেওয়া হয়েছে এই কালজয়ী বীরকে।


অন্য দিকে ভারতে  বিশেষত সোমনাথ মন্দির  আক্রমণের কারণসমূহ  অস্পষ্ট রেখে , শুধু মূর্তি ভাঙার বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে।
এমন কি আমরা যখন বাবরী মসজিদ  ভাঙা  নিয়ে কথা বলি, তখন রামপন্থী ও বামপন্থীরা সোমনাথ মন্দির ভাঙার বিষয়টি টেনে আনে। দৃঢ়তার সাথে উগ্রহিন্দুদের সমর্থন দেয়।প্রকৃত ইতিহাস না জানার কারণে তাদের দৃঢ়তার সামনে আমাদের কন্ঠস্বর নিচু হয়ে যায়। এক সময় নিজেদের মধ্যে হিনমন্যতা সৃষ্টি হয়, পূর্বপুরুষের ইতিহাস নিয়ে গর্ববোধের পরিবর্তে লজ্জিত হই।আর এই হিনমন্যতা ও লজ্জাবোধ আমাদের মধ্যে সৃষ্ট করাই সাম্রাজ্যবাদীদের "ইতিহাস বিকৃতি"-র মূল লক্ষ্য।যাতে তারা শতভাগ সফল।

ভারত আক্রমণের কারণ:-
"""""""''""""""""""""""'""""""""'''''''''''''''
১/হিন্দু জাতি ঐতিহাসিক ভাবে ধর্ষক,নারী বিদ্বেষী,কুসংস্কারাচ্ছন্ন বললে ভুল হবে না।প্রখ্যাত ঐতিহাসিক এনায়েত উল্লাহ্ আল-তামাস সোমনাথ আক্রমণের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:-মন্দিরের পুরোহিতরা কথিত ভগবানের করুণা পাওয়ার আশায়,একজন মুসলিম তরুণীকে ধর্ষণ ও বলি দেওয়ার চেষ্টা করে।মুসলিম তরুণী সম্ভ্রম রক্ষার্থে সোমনাথ মন্দিরের কূপে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।এই সংবাদ ইয়ামিনুদ্দাউলা ওয়া আমিনুল মিল্লাহ গজনীর সুলতান মাহমুদ জানতে পেরে হাজারো মাইল অতিক্রম করে সোমনাথ আক্রমণ করেন।

২/জয়পালের আগ্রাসী মনোভাব ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সুলতান ভারত আক্রমণ করেন।সূত্রঃ(শ্রীদাশগুপ্তের ভারত ও ইসলাম - চেপে রাখা ইতিহাস)
৩/ইতোপূর্বে রাজপুতদের সাথে সুলতানের কয়েকটি যুদ্ধ হয়, প্রতিটি যুদ্ধে ওরা পরাজয়  বরণ ও শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু অল্পদিন না যেতেই আবার বিশ্বাঘাতকতা করে।সোমনাথ মন্দির ছিল তাদের অঘোষিত রাজধানি।তারা মনে করত সোমনাথ মন্দির অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী,কেউ তা জয় করতে পারবে না। এ কারণে মন্দিরকে তারা পরামর্শমহল বা জাতীয় সংসদরূপে ব্যবহার করত। এখানে তারা নিজেদের অর্থ সম্পদ গোপন রাখত,এমন কি ইতিহাস থেকে জানতে পারি জলদস্যুরাও তাদের ছিনতাইকৃত সম্পদ গচ্ছিত রাখত।রাজনৈতিক  কারণেই সুলতান, সোমনাথ আক্রমণ করেন।( একই কারণে বাদশাহ আলমগীর ও আক্রমণ করেন)
৪/সোমনাথ মন্দিরে ঝুলন্ত শিব-মূর্তি ছিল, হিন্দুদের বিশ্বাস ছিল বিশেষ ক্ষমতা বলে ভগবানের মূর্তি শূন্যে অবস্থান করছে।সুলতান প্রকৌশলীর ও ধাতুবিদদের দ্বারা তা পরিক্ষা করান,ফলাফল বের হয় :- "মূর্তি ছিল লোহার আর বেষ্টিত দেয়ালের, ইট ছিল চৌম্বকের।"তাই দেয়ালটি ভেঙে দিতেই মূর্তি আপনা আপনি মাটিতে পরে ভেঙে যায়।এ বিষয়ে ঐতিহাসিক বেলুন উইলিয়াম হান্টার বলেন:- এক সময় লোকেরা গল্পটি খুব বেশি বিশ্বাস করলেও এখনকার গবেষণায় এটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে যে,মাহমুদ এবং তাঁর মূর্তি ভাঙার গোটা গল্পটাই সাজান।
( চেপে রাখা ইতিহাস)

সোমনাথ শুধু মন্দিরই নয় বরং এটা ছিল রাজপুতদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অলৌকিকতার, ভন্ডামীর কেন্দ্রস্থল।তাই সুলতাম মাহমুদ সোমনাথ আক্রমণ করে রাজপুতদেরকে সবদিক থেকে পরাস্ত করেন।
রয়ে গেলো অর্থের বিষয়টি,
পৃথিবীর শুরুতে থেকে আজ পর্যন্ত যত যুদ্ধ হয়েছে,সবখানেই শারীরিক পরাজয়ের সাথে সাথে অর্থনৈতিক ভাবেও শত্রুকে পরাস্ত করা হয়েছে।কিন্তু একমাত্র ইসলামই শত্রুর সম্পদ হস্তক্ষেপের কঠোর নীতিমালা দিয়েছে।শুধু যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর ছেড়ে যাওয়া মাল ব্যতীত অন্য মাল কে গনিমত হিসাবে ঘোষণা দেয়নি।

অভিযোগ খন্ডন:-
সুলতান মাহমুদ গজনভী রহ্ঃএর প্রতি আরেকটি অভিযোগ করা হয়, তিনি সোমনাথ মন্দিরের সম্পদ গজনী ও বাগদাদ নিয়ে যান।(যদিও বহু ঐতিহাসিকরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।)
যদি মেনেও নিই, তাহলে পাল্টা প্রশ্ন আসবে:-
১/তিনি কী কারো ঘর-বাড়ি থেকে সম্পদ নিয়ে ছিলেন না যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে?
২/মন্দির বিদ্বেষী হলে ভারতে কতটি মন্দির ধ্বংস করেছেন?
৩/সোমনাথ সমূলে ধ্বংস করলে সেখানে মন্দির থাকে কিভাবে?তা পূননির্মানের ইতিহাসটা একটু বলবেন?

সুতরাং বাবরি মসজিদ বিষয়ে সোমনাথ মন্দির টেনে আনা বোকামী ও সাম্রাজ্যবাদীদের বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে পরাজয় বরণ  করার বহিঃপ্রকাশ, বৈ কিছু নয়।

কেমন ছিলেন সুলতান মাহমুদ গজনভী? একজন হিন্দু নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকের কাছ থেকে জেনে নিই:-
"ইতিহাসে সুলতান মাহমুদের স্থান নির্ধারণ করা কঠিন নয়।সমসাময়িক মুসলমানরা তাঁকে গাজী ও ইসলামী নেতা বলে জানতেন।হিন্দুরা অনেকে আজ পর্যন্ত তাঁকে নিষ্ঠুর,অত্যাচার,আদি হুন এবং মন্দির ও মূর্তি বিণাষকারী বলে মনে করে থাকেন। কিন্তু যে সে যুগের খবর রাখেন, তাঁর ভিন্ন মত পোষণ আবশ্যক। নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের চোখে সুলতান মাহমুদ একজন শ্রেষ্ঠ জননেতা,ন্যায়পরায়ণ সুলতান,সাহসী ও প্রভাবশালী সেনাপতি এবং জ্ঞানবিজ্ঞান শিল্পকলার উৎসাহদাতা ছিলেন।তিনি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা বাদশাহদের আসনে বসার যোগ‍্য। " ড:ঈশ্বরী প্রসদের Mediacval India -১৯১)
[চেপে রাখা ইতিহাস ]

সুলতাম মাহমুদ ছিলেন,
"একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক,ধার্মিক মুসলিম,শশ্রুমন্ডিত সাহসী পুরুষ।তার সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে বহু অমুসলিম ছিল,ভারত ও সোমনাথ আক্রমণে তারাও শামিল ছিলো।  তাদের উল্লেখ করার বেলায় বর্তমান বিকৃত ইতিহাস নিরব কেন? তিনি ধার্মিক মুসলিম ছিলেন,এটাই তাঁর অপরাধ?

বিবেকানন্দ তার রচিত বইতে লিখেছে, “দেখা যায় ইসলাম যেথায় গিয়েছে, সেথায়ই আদি নিবাসীদের রক্ষা করেছে। সেসব জাতি আজো বর্তমান। তাদের ভাষা, জাতীয়তা আজও বর্তমান।” (প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, পৃষ্ঠা ১১৫)
ডক্টর তেজ বাহাদুর সাপ্রু বলেছেন:- “হিন্দুদিগকে রক্ষা করিবার একমাত্র উপায় ইসলাম ধর্মের কতিপয় মূলনীতি- আল্লাহর একত্ববাদ ও মানবের বিশ্বজনীননত্ব।”
আচার্য প্রফুল্ল রায় বলেছে, “জগতের বুকে ইসলাম সর্বোৎকৃষ্ট ধর্ম। প্রশান্ত মহাসাগর হতে শুরু করে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল পর্যন্ত সমস্ত মানবমনকে একসূত্রে আবদ্ধ করে ইসলাম পার্থিব উন্নতির চরম উৎকর্ষ লাভ করেছে।”
মুসলিম জাতি সাতশো বছরের কিছু বেশি সময় ধরে ভারতে শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। মুসলিম জাতি ছাড়া ভারতে আর কোনো সম্প্রদায় এই উন্নতির উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেনি। তর্কের খাতিরে যদি ইংরেজদেরও তুলনার জন্য টেনে আনা হয়, তাহলেও দেখা যাবে- ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১৯০ বছর ধরে তারা যে শাসন করেছে এর পেছনে উদ্দেশ্যই ছিল ভারতবর্ষ থেকে লুটপাট করে ইংরেজদের দেশগুলো উন্নত করা। আর করেছেও তাই। কিন্তু শতশত বছর মুসলমানগণ ভারত শাসন করেছেন কেবল ইসলাম ক্বায়িম করার জন্য। মুসলমানদের কারণেই ভারতে আজ হিন্দুরা দেশত্ববোধ, জাতিত্ববোধ শিখেছে।

পরিশেষে বলবো, চাপাবাজ, মস্তিষ্ক বিক্রিকারী কতিপয়  উশৃঙ্খল সাম্রাজ্যবাদী, জঙ্গিদের দৃঢ়তার সামনে আমার কন্ঠ নিচু বা অবদমিত কখনো হবে না।আমাদের ইতিহাস মাথা উঁচু করার ইতিহাস। আমরা কখনো কারো সম্মুখে মাথা নত করিনি।আর কখনো করবো ও না ইনশাআল্লাহ।
**************************************

চোখ রাখুন,আগামী পর্বে।
টিপু সুলতাম-শেষ নবাব
"দূর্গা পূজা "
ভগবানের পূজা নাকি ইংরেজদের গোলামী বরণের পূজা।

শুক্রবার, ৪ মে, ২০১৮

قصة حاطب بن أبي بلتعة



قال محمد بن إسحاق: حدثني محمد بن جعفر، عن عروة بن الزبير وغيره من علمائنا قالوا: لما أجمع رسول الله ﷺ المسير إلى مكة، كتب حاطب بن أبي بلتعة كتابا إلى قريش يخبرهم بالذي أجمع عليه رسول الله ﷺ من الأمر في السير إليهم.
ثم أعطاه امرأة زعم محمد بن جعفر أنها من مزينة، وزعم لي غيره أنها سارة مولاة لبعض بني عبد المطلب، وجعل لها جعلا على أن تبلغه قريشا، فجعلته في رأسها، ثم فتلت عليه قرونها، ثم خرجت به.
وأتى رسول الله ﷺ الخبر من السماء بما صنع حاطب، فبعث علي بن أبي طالب والزبير بن العوام، فقال: «أدركا امرأة قد كتب معها حاطب بن أبي بلتعة بكتاب إلى قريش، يحذرهم ما قد أجمعنا له من أمرهم».
فخرجا حتى أدركاها بالحليفة، حليفة بني أبي أحمد فاستنزلاها، فالتمساه في رحلها، فلم يجدا فيه شيئا.
فقال لها علي: إني أحلف بالله ما كذب رسول الله ﷺ ولا كذبنا، ولتخرجن لنا هذا الكتاب أو لنكشفنك.
فلما رأت الجد منه قالت: أعرض، فأعرض، فحلت قرون رأسها، فاستخرجت الكتاب منها، فدفعته إليه.
فأتى به رسول الله ﷺ، فدعا رسول الله ﷺ حاطبا، فقال: «يا حاطب ما حملك على هذا؟».
فقال: يا رسول الله أما والله إني لمؤمن بالله وبرسوله ما غيرت ولا بدلت، ولكنني كنت امرءا ليس لي في القوم من أصل ولا عشيرة، وكان لي بين أظهرهم ولد وأهل، فصانعتهم عليهم.
فقال عمر بن الخطاب: يا رسول الله دعني فلأضرب عنقه فإن الرجل قد نافق.
فقال رسول الله ﷺ: «وما يدريك يا عمر، لعل الله قد اطلع على أصحاب بدر يوم بدر، فقال: اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم».
وأنزل الله في حاطب: { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ... } [أول سورة الممتحنة] إلى آخر القصة.
هكذا أورد ابن إسحاق هذه القصة مرسلة.
وقد ذكر السهيلي أنه كان في كتاب حاطب أن رسول الله قد توجه إليكم بجيش كالليل يسير كالسيل، وأقسم بالله لو سار إليكم وحده، لنصره الله عليكم، فإنه منجز له ما وعده.
قال: وفي تفسير ابن سلام: أن حاطبا كتب: إن محمدا قد نفر، فإما إليكم وإما إلى غيركم، فعليكم الحذر.
وقد قال البخاري: ثنا قتيبة، ثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، أخبرني الحسن بن محمد أنه سمع عبيد الله بن أبي رافع، سمعت عليا يقول: بعثني رسول الله ﷺ أنا والزبير والمقداد، فقال: «انطلقوا حتى تأتوا روضة خاخ، فإن بها ظعينة معها كتاب فخذوه منها».
فانطلقنا تعادي بنا خيلنا، حتى أتينا الروضة، فإذا نحن بالظعينة، فقلنا: أخرجي الكتاب.
فقالت: ما معي.
فقلنا: لتخرجن الكتاب، أو لنلقين الثياب.
قال: فأخرجته من عقاصها، فأتينا به رسول الله ﷺ فإذا فيه: من حاطب بن أبي بلتعة، إلى ناس مكة من المشركين، يخبرهم ببعض أمر رسول الله ﷺ.
فقال: «يا حاطب ما هذا؟».
فقال: يا رسول الله لا تعجل علي، إني كنت امرءا ملصقا في قريش - يقول: كنت حليفا - ولم أكن من أنفسها، وكان من معك من المهاجرين من لهم قرابات بمكة يحمون بها أهليهم وأموالهم، فأحببت إذا فاتني ذلك من النسب فيهم، أن أتخذ عندهم يدا يحمون قرابتي، ولم أفعله ارتدادا عن ديني، ولا رضا بالكفر بعد الإسلام.
قال رسول الله ﷺ: «أما إنه قد صدقكم».
فقال عمر: يا رسول الله دعني أضرب عنق هذا المنافق.
فقال: «إنه قد شهد بدرا، وما يدريك لعل الله قد اطلع على من شهد بدرا، فقال: اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم».
فأنزل الله سورة: { ياأيها الذين آمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء } إلى قوله: { فقد ضل سواء السبيل } .
وأخرجه بقية الجماعة إلا ابن ماجه، من حديث سفيان بن عيينة.
وقال الترمذي: حسن صحيح.
وقال الإمام أحمد: ثنا حجين ويونس، قالا: حدثنا ليث بن سعد، عن أبي الزبير، عن جابر بن عبد الله أن حاطب بن أبي بلتعة كتب إلى أهل مكة يذكر أن رسول الله ﷺ أراد غزوهم، فدل رسول الله ﷺ على المرأة التي معها الكتاب، فأرسل إليها فأخذ كتابها من رأسها، وقال: «يا حاطب أفعلت؟»
قال: نعم، قال: أما إني لم أفعله غشا لرسول الله ﷺ ولا نفاقا، قد علمت أن الله مظهر رسوله ومتم له أمره، غير أني كنت غريبا بين ظهرانيهم، وكانت والدتي معهم، فأردت أن أتخذ يدا عندهم.
فقال له عمر: ألا أضرب رأس هذا؟
فقال: «أتقتل رجلا من أهل بدر، وما يدريك لعل الله اطلع إلى أهل بدر فقال: اعملوا ما شئتم».
تفرد بهذا الحديث من هذا الوجه الإمام أحمد، وإسناده على شرط مسلم، ولله الحمد.

আপনার বিয়োগে আমরা মর্মাহত, ভারাক্রান্ত হে মহাননেতা!

  এখনো আশাবাদী, ইয়াহইয়া আস সিনওয়ার, হিজড়াঈলিদের সকল প্রোপাগান্ডা মিথ্যা প্রমাণিত করে, আবারো জীবিত ফিরে আসবেন। আর যদি তিনি চিরবিদায় নিয়...