লিখেছেন---এনামুল হাসান কাসেমী
نحمدك يا من أنزل علينا القرآن في رمضان وجعله هداية للإنسان ونصلي على من جعله الله خير الأنام.؛
২য় পর্ব
- - - - - - - - - -
রোজার হুকুম :
'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''* প্রত্যেক আকেল (বোধ সম্পন্ন), বালেগ ( বয়সপ্রাপ্ত) ও সুস্থ্য মুসলিম নার-নারীর উপর রোজা রাখা ফরয।
* ছেলে মেয়ে দশ বৎসরের হয়ে গেলে তাদের দ্বারা (রোজা তাকীদ দিয়ে হলেও) রোজা রাখানো কর্তব্য। এর পূর্বে ও শক্তি হলে রোজা রাখার অভ্যাস করানো উচিত।
* বৎসরে পাঁচ দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ বা হারাম। ঐ পাঁচ দিন হল দুই ঈদের দিন এবং ঈদুল আহার পরের তিন দিন।
* এক দেশে রোজা শুরু করার পর অন্য দেশে চলে গেলে সেখানে যদি নিজের দেশের তুলনায় আগে ঈদ হয়ে যায়, তাহলে নিজের দেশের হিসাবে যে কয়টা রোজা বাদ গিয়েছে তার কাযা করতে হবে। আর যদি সেখানে গিয়ে রোজা এক দুটো বেড়ে যায় তাহলে তা রাখতে হবে।
সূত্র :( জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া খন্ড ১,
আহসানুল ফাতাওয়া খন্ড ৪) ।
রোযার নিয়তের মাসায়েল :
'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''* রমজানের রোজার জন্য নিয়ত করা ফরয। নিয়ত ব্যতীত সারাদিন পানাহার ও যৌনতৃপ্তি থেকে বিরত থাকলেও রোজা হবে না।
* মুখে নিয়ত করা জরুরী নয়। অন্তরে নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে, তবে মুখে নিয়ত করা উত্তম।
* মুখে নিয়ত করলেও আরবীতে হওয়া জরুরী নয়-যে কোন ভাষায় নিয়ত করা যায়। নিয়ত এভাবে করা যায় -
আরবীতে نويت بصوم اليوم অথবা بصوم غد نويت
বাংলায়ঃ আমি আজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম।
* সূর্য ঢলার দেড় ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত রামাযানের রোজার নিয়্যাত করা দুরাস্ত আছে, তবে রাতেই নিয়ত করে নেওয়া উত্তম।
* রমজান মাসে অন্য যে কোন প্রকার রোজা বা কাযার নিয়ত করলেও এই রমজানের রোজা আদার হবে- অন্য যে রোজার নিয়ত করবে সেটা আদায় হবে না।
* রাতে নিয়ত করার পরও সুবহে সাদেকর পূর্ব পর্যন্ত পানাহার ও যৌনকর্ম জায়িয। নিয়ত করার সঙ্গে সঙ্গেই রোজা শুরু হয় না,বরং রোজা শুরু হয় সুবহে সাদেক থেকে।
সূত্র :( জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া খন্ড ১,
আহসানুল ফাতাওয়া খন্ড ৪) ।
সাহরীর মাসাইলঃ
'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''* সাহরী খাওয়া জরুরী নয় তবে
সাহসী খাওয়া সুন্নাত, অনেক ফযীলতের আমল, তাই ক্ষুধা না লাগলে বা খেতে ইচ্ছে না করলেও সাহরীর ফযীলত হাছিল করার নিয়তে যা-ই হোক কিছু পানাহার করে নিবে।
* নিদ্রার কারণে সাহরী খেতে না পারলেও রোজা রাখতে হবে। সাহরী না খেতে পারায় রোজা না রাখা অত্যন্ত পাপ।
* সাহরীর সময় আছে বা নেই নিয়ে সন্দেহ হলে সাহরী না খাওয়া উচিত। এরুপ সময়ে খেলে রোজা কাযা করা ভালো। আর যদি পরে নিশ্চিত ভাবে জানা যায় যে, তখন সাহরীর সময় ছিল না, তাহলে কাযা করা ওয়াজিব।
* সাহরীর সময় আছে মনে করে করল অথচ পরে জানা গেল যে, তখন সাহরীর সময় ছিল না, তাহলে রোজা হবে না, তবে সারাদিন তাকে রোজাদারদের ন্যায় থাকতে হবে এবং রামাযানের পর ঐ দিনের রোজা কাযা করা ওয়াজিব।
* বিলম্বে সাহরী খাওয়া উত্তম। আগে খাওয়া হয়ে গেলেও শেষ সময় নাগাদ কিছু চা-পানি ইত্যাদি করতে থাকলেও বিলম্বে সাহসী করার ফযীলত অর্জিত হবে।
সূত্র : ফতোওয়ে রহিমিয়হ খন্ড ৩,
আহসানুল ফতোয়া খন্ড ৪,
জাওয়াহিরুল ফিকহ খন্ড ১,)
ইফতার-এর মাসাইলঃ
'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''* সূর্য অন্তিম হওয়ার পর বিলম্ব না করে তারাতারি ইফতার করা মুস্তাহাব। বিলম্বে ইফতার করা মাকরূহ।
* মেঘের দিনে কিছু দেরি করে ইফতার করা ভাল। মেঘের দিনে ঈমানদার ব্যক্তির অন্তরে সূর্য অস্ত গিয়েছে বলে সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত বছর করা ভাল। শুধু ঘড়ি বা আযানের উপর নির্ভর করা ভাল নয়, কারণ তাতে ভুলও হতে পারে।
* সবচেয়ে উত্তম হল খোরমা দ্বারা ইফতার করা, তারপর কোন মিষ্টি জিনিস দ্বারা তারপর পানি দ্বারা।
* লবণ দ্বারা ইফতার শুরু করা উত্তম এই আকীদা ভূল।
* ইফতার করার পূর্বে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবে। দুআ পাঠ করা মুস্তাহাব।
، عَنْ مُعَاذِ بْنِ زُهْرَةَ ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ : " اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ ".
حكم الحديث: ضعيف
( আবু দাউদ হাঃ ২৩৫৮ তবে হাদিসটি যঈফ বলেছেন )
* ইফতার করার পর নিম্নের দোয়া পাঠ করবে-
، وَقَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ : " ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ".
حكم الحديث: حسن
( আবু-দাউদ হাঃ ২৩৫৭ হাদীসটি হাসান )
ইফতারের পূর্বে বা কিছু ইফতার করে বা ইফতার থেকে সম্পূর্ণ ফারিগ হয়ে দুআ করা মুস্তাহাব।
* পশ্চিম দিকে প্লেনে সফর শুরু করার কারণে যদি দিন লম্বা হয়ে যায় তাহলে সুবহে সাদেক থেকে নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সূর্যাস্ত ঘটলে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইফতার বিলম্ব করতে হবে, আর ২৪ ঘন্টার মধ্যেও সূর্যাস্ত না ঘটলে ২৪ ঘন্টা পূর্ণ হওয়ার সামান্য কিছু পূর্বে ইফতার করে নিবে।
* পূর্ব দিকে প্লেনে সফর করলে যখনই সূর্যাস্ত পাবে তখনই ইফতার করবে।
সূত্র : জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া খন্ড ১,
আহসানুল ফাতাওয়া খন্ড ৪) ।
যে সব কারণে রোজা ভাঙ্গে না এবং মাকরূহও হয়
'' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' '' ''নাঃ
'' '' '' '' ''
১- মিসওয়াক করা। যেকোন সময় হোক, কাঁচা হোক বা শুকনা।
২- শরীর বা মাথা বা দাড়ি গোঁপে তেল লাগানো।
৩- চোখে সুরমা লাগানো বা ঔষধ দেওয়া।
৪- খুশবু লাগানো বা তার ঘ্রাণ নেওয়া।
৫- ভুলে কিছু পান করা বা আহার করা।
৬- গরম বা পিপাসার কারণে গোসল করা বা বারবার কুলি করা।
৭- অনিচ্ছা বশতঃ গলার মধ্যে ধোঁয়া, ধুলাবালি বা মাছি ইত্যাদি প্রবেশ করা।
৮- কানে পানি দেওয়া বা অনিচ্ছা বশতঃ চলে যাওয়ার কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না, তবে ইচ্ছাকৃত ভাবে দিলে সতর্কতা হল রোজা কাযা করে নেওয়া।
( জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া খন্ড 1)
৯- অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হওয়া। ইচ্ছাকৃত ভাবে অল্প বমি করলে মাকরূহ হয় না, তবে এরূপ করা ঠিক নয়।
১০- স্বপ্ন দোষ হওয়া।
১১- মুখে থুথু আসলে গিলে ফেলা।
১২- যে কোন ধরনের ইনজেকশন বা টিকা লাগানো। তবে রোজার কষ্ট যেন বোধ না হয়-এ উদ্দেশ্যে শক্তির ইনজেকশন বা স্যালাইন লাগানো মাকরূহ।
১৩- রোযা অবস্থায় দাঁত উঠলে এবং রক্ত পেটে না গেলে।
১৪- পাইরিয়া রোগের কারণে যে সামান্য রক্ত সব সময় বের হতে থাকে এবং গলার মধ্যে যায় তার কারণে।
১৫- সাপ ইত্যাদি দংশন করলে।
১৬ - পান খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলি করা সত্ত্বেও যদি থুথুর লালাভাব থেকে যায়।
১৭- শাহওয়াতের সঙ্গে শুধু নজর করার কারনেই যদি বীরযপাত ঘটে যায় তাহলে রোজা ফাসেদ হয় না।
১৮- রোযা অবস্থায় শরীর থেকে ইনজেকশনের সাহায্যে রক্ত বের করলে রোজা ভঙ্গে না এবং এতে রোজা রাখার শক্তি চলে যাওয়ার মত দুর্বল হয়ে পড়ার আশংকা না থাকলে মাকরূহও হয় না।
সূত্র : ১- আহসানুল ফাতাওয়া খন্ড ৪,
২ - জাওয়াহিরূল ফাতাওয়া খন্ড ১,
৩ - ফাতাওয়ে রহিমিয়াহ খন্ড ৩,
৪ - ফাতাওয়ে মাহমুদিয়া খন্ড ৩,।
চলবে,,,





